শীতে ত্বকের যত্ন

শীতকালে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আমাদের দৈনন্দিন রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আসে। খাবার থেকে পোশাক সবকিছুতেই দেখা যায় খালিকাটা পরিবর্তন।

এসবের পাশাপাশি বিউটি ট্রিটমেন্টেও কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। কারণ বাতাসে একটু শীতলতা এসে ত্বকে টান দেয় না। তা থেকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় ত্বককে বিশেষ করে আর্দ্র রাখতে চাই।
এ সময় ভালো সানস্ক্রিন লোশন এবং ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা খুবই জরুরি। এছাড়াও, আপনার ত্বক পরিষ্কার রাখুন। আর প্রতি রাতে ত্বকের বিশেষ যত্ন নিতে হবে। আসুন জেনে নেই শীতের রাতের সৌন্দর্য কেমন হবে-

  • দুধ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন। দুধের মত স্কিন ক্লিনজার কম আছে। রাতে ঘুমানোর আগে দুধ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলে ত্বক নরম হবে। মুখ থেকে আবার সব ধরনের ময়লা বেরিয়ে আসবে।

 

  • শীতকালে ত্বক সহজেই শুষ্ক হয়ে যায়। তাই এই মৃত কোষ অপসারণ করা প্রয়োজন। তাই মাঝে মাঝে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল দিয়ে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন অনুশীলন করুন।

 

  •  প্রতি রাতে আপনাকে প্রচুর ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। সেই ময়েশ্চারাইজার দিয়ে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। ত্বক অনেক নরম হবে, আর্দ্রও হবে।

 

  • সপ্তাহে একবার ফেস মাস্ক ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। কলার চাটনির সঙ্গে মধু ও দই মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করতে পারেন। আপনার মুখে মাস্কটি দশ মিনিটের জন্য প্রয়োগ করুন এবং তারপরে হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক কোমল হবে।

৪০ বছর বয়সের পর ডিম খাওয়া কি উচিত?

ডিম কমবেশি সবার কাছে সহজলভ্য এবং জনপ্রিয় খাবার। একে প্রোটিন এবং পুষ্টির পাওয়ার হাউসও বলা হয়। ডিম শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি, হাড় মজবুত ও প্রতিভার বিকাশের জন্য খুবই কার্যকরী। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। আর কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি হাড়ের জন্য ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে, অপুষ্টি, রক্তস্বল্পতা এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা দূর করতে দিনে অন্তত একটি ডিম খাওয়া উচিত।

ডিমের পুষ্টিগুণ নিয়ে কারো মনে সন্দেহের অবকাশ নেই। এরপরও চল্লিশ বছর বয়সের পর নিয়মিত ডিম খাওয়া ঠিক হবে কিনা তা অনেকেই বুঝতে পারেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ডিম আমাদের খাবারের প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। একটি সেদ্ধ ডিমে ছয় গ্রামের বেশি প্রোটিন এবং ৫ গ্রামের একটু বেশি ফ্যাট থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি। কোলেস্টেরল প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমের নানা উপকারিতা রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পেশির ক্ষতি পূরণে ডিম খুবই কার্যকর। শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে পেশীর গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে শূন্যস্থান পূরণ করতে পারে ডিম। এছাড়া ডিম সহজে হজম হয়। এতে লিউসিন নামক একটি অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে, যা পেশী তৈরির জন্য অপরিহার্য। এছাড়াও ডিমে ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে।

ডিমের অনেক উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই আছেন যারা ৪০  বছর বয়সের পর কোলেস্টেরলের কথা চিন্তা করে ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেন। এ বিষয়ে আধুনিক কিছু গবেষক বলছেন, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া খুব একটা বিপজ্জনক নয়। কারণটি হল যে একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৩০০ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে। তাই দিনে একটি করে ডিম খেলে বিশেষ সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

গবেষকরা বলছেন, ৫০ বছর পর সপ্তাহে তিনটি ডিম খাওয়া যায়। যারা এখনো নিশ্চিত নন তারা কুসুম ছাড়া ডিম খেতে পারেন।

তবে মনে রাখবেন, সবার শরীর এক নয়। তাই অসুস্থতার লক্ষণ বা পুষ্টি নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিম খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

 

Source: নিউজ এক্সপ্রেস 24